সাকিব নেই, চিন্তা কীসের?

আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে আগামী এক বছর কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না সাকিব আল হাসান। ফলে সাকিবকে ছাড়াই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিবের অভাব কতটুকু যন্ত্রণা দেবে বাংলাদেশকে?

সাকিবকে ছাড়া এক বছর চলতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় সাকিবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। এর মধ্যে এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। এই দুঃসংবাদ মাথায় নিয়েই ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে প্রতিবেশী দেশে গিয়েছে বাংলাদেশ। কাল থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

এখন আপনাকে যদি বলা হয়, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিব না থাকায় ভালোই হয়েছে, মানবেন? পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হা-রে-রে-রে করে তেড়ে আসার আগে পুরো লেখাটা পড়ুন। এর পরে না হয় সিদ্ধান্ত নেবেন কী করা যায় প্রতিবেদকের।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে মাত্র আটবার। এর মধ্যে আবার সাকিব খেলতে পেরেছেন ছয় ম্যাচ। এই ছয় ম্যাচে সাকিবের ব্যাট হাসেনি একদম। ভারতের বিপক্ষে এই ছয় ম্যাচে সাকিবের মনে রাখার মতো কোনো ইনিংস নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই তো?

ভারতের বিপক্ষে ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলে মাত্র ৬২ রান করেছেন সাকিব আল হাসান। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ২২। গড় মাত্র ১০.৩৩। এই ৬২ রান তুলতে আবার বল খেলেছেন ৫৮টা। তার মানে স্ট্রাইক রেটের অবস্থাও বিশেষ সুবিধার নয়, মাত্র ১০৬.৮৯। টি-টোয়েন্টির ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের কাছে যে স্ট্রাইক রেট বেশ বেমানানই বটে। ভারতের বিপক্ষে এই ছয় ম্যাচে চার মারতে পেরেছেন মাত্র চারটি, ছক্কা দুটি।

দুই দলের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে শুধু রোহিত শর্মার উইকেটটা তুলে নিয়ে পেরেছিলেন সাকিব। ট্রেন্ট ব্রিজের সে ম্যাচে প্রজ্ঞান ওঝার স্পিনে ঘায়েল হওয়ার আগে ১০ বল খেলে মাত্র ৮ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোল্ড হয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমারের বলে। দুই বল খেলে করেছিলেন মাত্র এক রান। বল হাতে চার ওভারে ২৬ রান নিয়ে একজনকেও আউট করতে পারেননি সে দিন।

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও একই কাহিনি। যুবরাজ সিংকে আউট করার আগে ৩ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে আট বলে মাত্র তিন রান করে রান আউট হয়েছিলেন। সে বার এশিয়া কাপের ফাইনালে গোটা দেশ অপেক্ষায় ছিল সাকিবের জ্বলে ওঠার। কিন্তু সাকিব সেদিনও হতাশ করেছিলেন সবাইকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে যশপ্রীত বুমরার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬ বল খেলে ২১ রান করেছিলেন তিনি। বল হাতেও ছিলেন ব্যর্থ। যে দুই ওভার বল করেছেন, রান দিয়েছেন ২৬। ইচ্ছেমতো সেদিন সাকিবকে পিটিয়েছিলেন বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মা।

ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে পরের ম্যাচে শিখর ধাওয়ানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলাই ছিল বল হাতে সাকিবের একমাত্র সাফল্য। চার ওভারে ২৩ রান দিয়েছিলেন সে দিন। ব্যাট হাতে অশ্বিনের বলে রায়নার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৫ বলে ২২ করেছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টি ভারতের বিপক্ষে এটাই সাকিবের সর্বোচ্চ স্কোর।

২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে তিন বার ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই বার গ্রুপ পর্বে, এক বার ফাইনালে। আঙুলের চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে খেলেননি সাকিব। চোট সারিয়ে ফাইনালে ফেরেন তিনি। তাতেও লাভ হয়নি কোনো। ফাইনালে রান আউট হওয়ার আগে সাত বলে সাত রান তোলেন। বোলিংয়ে চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে শুধু শিখর ধাওয়ানকে আউট করেন তিনি।

সাকিব না জ্বলে উঠলে বাংলাদেশ যে জ্বলে ওঠে না, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ যেন। ভারতের বিপক্ষে এ কারণেই বোধ হয় সব কয়টা টি-টোয়েন্টিতে হেরেছে বাংলাদেশ!

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *