যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভ্যাকসিন চান ট্রাম্প; জার্মানি বলল, আমরা বিশ্বকে দেব

বিশ্বব্যাপী নতুন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর একটি ভ্যাকসিন খুঁজতে এবং এর বিকাশের জন্য বিশ্বজুড়ে ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জার্মানির মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি জার্মান পত্রিকা ওয়েল্ট অ্যাম সোনট্যাগ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মান ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা কুরিভ্যাককে করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন তৈরী করে দিতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এখানে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রেরই শুধু এই ভ্যাকসিনটির ওপর একচেটিয়া অধিকার থাকবে।

উর্ধ্বতন জার্মান সরকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এআরডি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জার্মানির অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী পিটার আল্টমায়ার মন্তব্য করেছেন যে, জার্মানি কারো কারো কাছে বিক্রি হয় না।

রবিবার জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সিহোফারও বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য দেন।

সে সময় তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে শুনেছি যে, এটি সত্য ঘটনা ( ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব)। আগামীকাল করোনাভাইরাস কমিটির বৈঠকে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

সরকারের স্বাস্থ্য কমিটিতে কর্মরত জার্মান সাংসদ এরউইন রোডেল এই প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, জাতীয় স্বার্থ নয়।

তবে জার্মানিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড গ্রেনেল এই প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জার্মান কোম্পানির কাছে এমন প্রস্তাব দেননি।

তিনি বলেন, জার্মান গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ভুল ছিল।

এদিকে, মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে, জার্মান ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা কুরিভ্যাক জানায়, আমরা সারাবিশ্বের মানুষকে সহায়তা ও সুরক্ষার জন্য করোনভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমাদের সংস্থা সম্পর্কিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি আমরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *