মোদির ভাষণ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিনন্দন

মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেয়া ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, এই ভাষণ দুই সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, মোদির ভাষণ দুই দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে এই সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হয়। এই সম্পর্ক উভয় দেশকে রক্ষা করতে হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ভাষণ দিয়েছেন আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। এর আগে তিনি মৃতপ্রায় সার্ককে উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনেক প্রশংসার যোগ্য। উপমহাদেশের দেশগুলোকে এগিয়ে নিতে হলে ভারতকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরস্পরের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পরস্পর পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত ও ত্বরান্বিত করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি, আপনার উদ্যোগ সফল হোক এবং মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং উপমহাদেশের প্রতিটি দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের আহমদ এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর শতজন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৩০ কোটি মানুষের দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন, আমি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে একজন মুজিব অনুসারী হিসেবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি তার বক্তব্যে জাতির জনককে ”শতাব্দীর অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব” বলেছেন। তিনি বলেছেন, তার অনুপ্রেরণা আমাদের ঐতিহ্যকে বিস্তৃত করেছে। তিনি বাঙালি জাতির গৌরবকে, বাংলাদেশের মানুষকে সম্মনিত করেছেন। তিনি উন্নয়নের কথা বলেছেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে এরইমধ্যে পরিগনিত হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতবাসীর পক্ষে যে ওয়াদা করেছেন আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারতের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের মধ্যে দিয়ে তা বাস্তবে রূপলাভ করবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্তের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা যে সুসম্পর্ক তা অটুট থাকবে এবং সেই ক্ষেত্র তিনি তৈরি করবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের ১৩০ কোটি লোকের পক্ষ থেকে আমাদের মহান নেতা এবং বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সহানুভূতির উদাহরণ। তিনি মুজিব শতবর্ষে আমাদের জাতির জনককে সকল শুভ কর্মের উৎস হিসেবে অবহিত করেছেন। বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব সোনালী পর্বের জন্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন মোদি তা আরও দৃঢ় করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিক্ষার আদান প্রদানের উপর জোর দিয়েছেন। বিশ্ব সভায় এই দুই দেশ একে অপরের হাত ধরে সমভূমিকায় উপস্থিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অনেক গুরুত্ব দেয়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সে সম্পর্ক উচ্চ পর্যায়ে আছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে স্থল, নৌ, আকাশ পথে বাংলাদেশের যে কানেক্টিভিটি  আছে তা ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুসম্পর্কের পরিচয় বহন করে। এ উপমহাদেশে বাংলাদেশকে যারা প্রতিহিংসার চোখে দেখতো তাদের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোল মডেল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *