ইতালিতে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে

নভেল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে ইতালি। গতকাল বৃহস্পতিবারও ‘করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯’ (কভিড-১৯) এ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল তিন হাজার ৪০৫ জনে। অর্থাৎ মৃতের সংখ্যায় একক দেশ হিসেবে চীনকে (তিন হাজার ২৪৫ জন) ছাড়িয়ে গেল ইউরোপের দেশটি।

ইতালিতে লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়লেও সুস্থ হওয়ার হার অপেক্ষাকৃত কম। আর বয়স্কপ্রধান দেশটিতে মৃত্যুহার বৈশ্বিক হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গতকাল বৈশ্বিক মৃত্যুহার ছিল ৪ শতাংশ, সেখানে ইতালিতে এই হার ৮.২৯ শতাংশ। এরই মধ্যে দেশটিতে নতুন সংকট শুরু হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৬২৯ জন চিকিৎসক ও নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধের সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুজুপ্পে কোন্তে।

করোনা মোকাবেলায় প্রতিবেশী ভারত সরকার আগামী রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ‘জনতার কারফিউ’ ঘোষণা করেছে। ওই সময়ের মধ্যে দেশটিতে কেউ ঘর থেকে বেরোতে পারবে না। এ ছাড়া রবিবার থেকে কোনো বিদেশি বিমান ভারতে নামতে পারবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগটির কার্যকর প্রতিষেধক পাওয়ার কথা দাবি করা হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো সেসবের স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি সামুদ্রিক বন্য প্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বলে গবেষকরা ধারণা করে আসছেন। গত বুধবার সেই হুবেইসহ চীনের কোথাও স্থানীয়ভাবে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। দেশটিতে মহামারি দেখা দেওয়ার পর এই প্রথম অভ্যন্তরীণ আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামল। তবে দেশটিতে বিদেশফেরত ৩৪ জন শনাক্ত হয়েছে গতকাল। সব মিলিয়ে চীনে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৮০ হাজার ৯২৮ ও তিন হাজার ২৪৫।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইতালিতে কভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৪১। এর চার দিনের মধ্যেই সে দেশে মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ১৫ মার্চ সেখানে মারা যায় ৩৬৮ জন। ১৬ মার্চ ৩৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরদিন প্রাণ হারায় আরো ৩৪৫ জন। বুধবার এক দিনে মারা যায় নতুন ৪৭৫ জন।

ইতালিতে প্রতিদিন তিন হাজারের ওপর নতুন সংক্রমিত যোগ হচ্ছে তালিকায়। ১৫ মার্চ নতুন করে সংক্রমিত হয় তিন হাজার ৫৯০ জন। ১৬ তারিখে সেই সংখ্যা ছিল তিন হাজার ২৩৩। পরদিন সংক্রমিত হয় আরো তিন হাজার ৫২৬ জন। বুধবার নতুন করে আক্রান্ত হয় চার হাজার ২০৭ জন। আর গতকাল এই সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৩২২। আশঙ্কার কথা হলো, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়লেও সেরে উঠা মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ১৫ থেকে ১৭ মার্চ হাজারেরও কম মানুষ সেরে উঠেছে ইতালিতে। ১৫ মার্চ সুস্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয় মাত্র ৩৬৯ জনকে। পরদিন সুস্থ হয় ৪১৪ জন। তবে ১৭ মার্চ সুস্থ হয় মাত্র ১৯২ জন। তবে বুধবারে (১৮ মার্চ) সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে (এক হাজার ৮৪ জন)। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৪৪০ জন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের বসবাস ইতালিতে। আর কভিড-১৯ রোগে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে। কারণ এ বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত কম, তার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদেরাগ, ডায়াবেটিসের মতো বালাই তাঁদের শরীরে আগে থেকেই বাসা বাঁধে।

গত ১২ মার্চ পুরো ইতালিকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয় সরকার। তবে গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুজুপ্পে কোন্তে বলেছেন, পরিস্থিতির আরো অবনতির ঘটনায় অবরুদ্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ইতালি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

মহামারির বর্তমান কেন্দ্রস্থল ইতালি থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে। এসব দেশেও নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে, সংক্রমণে উল্লম্ফন হয়েছে জার্মানিতে। দেশটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ (দুই হাজার ৯২০ জন) হয়েছে গত বুধবার। অবশ্য সেখানে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১৪ হাজার ৫৪৪ জন। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১৩ জন।

করোনা মহামারি মোকাবেলা করতে গিয়ে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নাগরিকদের অবরুদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কেল বলেন, পরিস্থিতি মারাত্মক। একে মারাত্মকভাবেই নিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি কখনো এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়নি। এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে জার্মানিতে বসবাসরত প্রত্যেক মানুষের দায়িত্বজ্ঞানের প্রয়োজন। সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

দিন যতই গড়াচ্ছে ইউরোপের দেশ স্পেনের পরিস্থিতিও ততই খারাপ হচ্ছে। গতকাল সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৬২৬ জন, মারা গেছে ১৬৫ জন। এতে মোট সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল যথাক্রমে ১৭ হাজার ৩৯৫ ও ৮০৩। সুস্থ হয়েছে এক হাজার ১০৭ জন।

ফ্রান্সে করোনা মোকাবেলায় অবরুদ্ধ থাকার নির্দেশ অমান্য করায় চার হাজারের বেশি মানুষকে জরিমানা করেছে দেশটির পুলিশ। গত বুধবার তাদের জরিমানা করা হয়। গত মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিস্তফ ক্যাস্তানার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চার হাজার ৯৫ জনকে নিয়ম ভাঙার কারণে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৫ ইউরো (৩৮ মার্কিন ডলার) করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু আজ জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৩৫ ইউরো করা হয়েছে। পরে এটি ৩৭৫ ডলার করারও সম্ভাবনা আছে।’ ফ্রান্সে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ হাজার ১৩৪ ও ২৬৪।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক প্রতিনিধিসহ মার্কিন কংগ্রেসের দুই আইন প্রণেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কংগ্রেসম্যান মারিও দিয়াজ-বালাসের অফিস তাঁর করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত সপ্তাহে মায়ামি সিটি মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ করোনায় আক্রান্তের খবর জানান। তাঁরা দুজনই নিজেদের বাসায় সিডিসি বিশেষ সেল্ফ আইসোলেশন নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। গত সপ্তাহে মারিও দিয়াজ-বালাস সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করায় অপর রিপাবলিকান সদস্য স্টিভ স্যালাইস সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে গেছেন। গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত দুই হাজার ৮৯ জন, মারা গেছে ১১ জন। এতে দেশটিতে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১ হাজার ৩৪৮ ও ১৬১।

বৈশ্বিক হিসাবে ইতালির পরপরই নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে। গতকাল সেখানে নতুন করে এক হাজার ৪৬ জন সংক্রমিত হয়েছে আর মারা গেছে ১৪৯ জন। এতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০৭ আর মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২৮৪।

করোনার প্রাদুর্ভাবকে অনেকটাই ঠেকিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই কমতে শুরু করেছে। গতকাল দেশটিতে মারা গেছে সাতজন, সংক্রমিত হয়েছে ১৫২ জন। সব মিলিয়ে দেশটিতে আট হাজার ৫৬৫ জন সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৯১ জন।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৭টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৯২০। সুস্থ হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৭৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৮২৯ জনের। এর মধ্যে গতকাল প্রথম মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান, রাশিয়া, কোস্টারিকা, ফিজি ও সাবসাহারা আফ্রিকা অঞ্চল।

ভারতে বিদেশি ফ্লাইট বন্ধ

করোনা মোকাবেলায় বিদেশি ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। আগামী রবিবার থেকে কোনো বিদেশি বিমান ভারতের কোনো বিমানবন্দরে নামতে পারবে না। এক সপ্তাহের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এদিকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তি এবং ১০ বছরের কম বয়সের শিশুরা যেন বাড়ির বাইরে না বেরোয়, তা নিশ্চিত করতে সব রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এই আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি আমলা ও কর্মকর্তা পদমর্যাদার কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৫০ শতাংশ গ্রুপ বি ও গ্রুপ সি কর্মীদের অফিসে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট হেড ক্লার্ক গ্রুপ বি ও গ্রুপ সি কর্মীকে সূচি ঠিক করে দেবেন।

গতকাল দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪। তাদের মধ্যে পাঞ্জাবে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের। ওই ব্যক্তি কয়েক দিন আগে ইতালি থেকে ফিরেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রতিবেশী ভারতে চারজনের মৃত্যুর খবর মিলল।

শ্রীলঙ্কায় সংসদ নির্বাচন স্থগিত

করোনার কারণে শ্রীলঙ্কায় পূর্বনির্ধারিত সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহিন্দা দেশাপ্রিয়া বলেছেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। আগামী মে, জুন অথবা জুলাইয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসার ওপর।

করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি নয়

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস কোনো গবেষণাগারে তৈরি হয়নি বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বিবর্তনের মাধ্যমে ভাইরাসটির উদ্ভব হয়েছে। এ গবেষণা রোগটির উৎপত্তির বিষয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে নাকচ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।

নতুন করোনাভাইরাসটি গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে—এমন প্রচার আছে বিশ্বজুড়েই। তবে নেচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের গবেষকরা করোনাভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে তা খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ভাইরাসটির উদ্ভব যে প্রকৃতিগতভাবে সে বিষয়ে জোরালো প্রমাণ মিলেছে। সম্ভবত ভাইরাসটি একটি বাদুড় বা একটি বনরুই-জাতীয় পিঁপড়াভুক প্রাণী থেকে ছড়াতে পারে।

  1. গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনোলজি ও মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন বলেছেন, ‘জানা করোনাভাইরাস প্রজাতিগুলোর জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত যে নভেল করোনাভাইরাসের উদ্ভব প্রাকৃতিকভাবে হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *