তাঁরা ধূমকেতুর মতো জ্বলে নিভে গেছেন দপ করে

তাঁদের আবির্ভাব হয় ধূমকেতুর মতো। প্রস্থানও ঘটে সেভাবেই। অতি অল্প সময়ের জন্য বিশ্ববাসীকে মাতিয়ে রাখেন নিজেদের ফুটবলশৈলীতে। এরপর হারিয়ে যান কালের অতল গহ্বরে। এমনই কয়েকজন হারিয়ে যাওয়া তারাদের নিয়ে আজকের আয়োজন

মিচুকে মনে পড়ে? প্রিমিয়ার লিগের পাঁড় ভক্ত না হলে মনে রাখাটা বেশ কষ্টের। অথচ এই মিচুই অন্তত কয়েক মাসের জন্য বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার বনে গিয়েছিলেন। আর্সেনাল, বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলো পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিল তাঁকে দলে নেওয়ার। প্রথম মৌসুমে করেছিলেন ২২ গোল। সোয়ানসি সিটির মতো ক্লাবকে জিতিয়েছিলেন লিগ কাপ। মিচুর ঝলক দেখে ভক্ত বনে গিয়েছিলেন এখনকার অনেক তারকা, এদের মধ্যে রয়েছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে আলো ছড়ানো তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং ব্রট হরলান্ডও।

ব্যস, অতটুকুই। পরের মৌসুমেই হারিয়ে ফেললেন নিজের সেই উজ্জ্বল ফর্ম। নাপোলিতে গিয়ে হয়ে পড়লেন অপাঙেক্তয়। পতন এতই দৃষ্টিকটু ও দ্রুত হয়েছিল, শীর্ষ লিগের কোনো ক্লাবই আর মিচুকে দলে নিতে চাইল না। স্পেনের চতুর্থ বিভাগের দল ল্যাংরেওতে ঠাঁই মিলল। সেখান থেকে গেলেন দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ওভেইদোতে। ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন সেখানেই।

মিচুর জন্মদিন উপলক্ষে এমন আরও কয়েকজন হারিয়ে যাওয়া তারার দিকে আসুন একটু ফিরে তাকানো যাক, যাদের ঝলক নিয়মিত দেখার সুযোগ হয়নি ফুটবল-বিশ্বের।

রকি সান্তা ক্রুজ, যখন তেভেজের সতীর্থ ছিলেন। ছবি : এএফপি

রকি সান্তা ক্রুজ
প্যারাগুয়ের এই স্ট্রাইকারের প্রতিভা নিয়ে কারওর সন্দেহ নেই। বায়ার্নের মতো ক্লাবে খেলেছেন, তবে কখনই গোল করতে অতটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। এই ‘অপবাদ’ ঝেড়ে ফেলেছিলেন এক মৌসুমের জন্য ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়ে খেলতে এসে। বায়ার্ন থেকে ব্ল্যাকবার্নে এসে প্রথম মৌসুমেই ২২ গোল করে হইচই ফেলে দেন সান্তা ক্রুজ। নজর পড়ে ‘নব্য ধনী’ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির। ১৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে যোগ দেন সিটিতে। ব্যস, আর নিয়মিত গোল করা ওঠেনি সান্তা ক্রুজের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে ৪ গোল করেন। এখন আছেন নিজ দেশের ক্লাব অলিম্পিয়ায়।

আদনান ইয়ানুজাই। ছবি : এএফপি

আদনান ইয়ানুজাই
‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভবিষ্যৎ’, ‘ভবিষ্যৎ নাম্বার সেভেন’, ‘পরবর্তী রোনালদো’—কত কিছুই না বলা হতো বেলজিয়ামের এই উইঙ্গারকে! স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যাওয়ার পর ডেভিড ময়েস-যুগের একমাত্র আশার আলো ছিলেন এই ইয়ানুজাই। ইউনাইটেডের হয়ে যে ম্যাচে প্রথমবারের মতো প্রথম একাদশে ছিলেন, সে ম্যাচে জোড়া গোল করে স্যান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে উদ্ধার করেন ইয়ানুজাই। ব্যস, শুরু হলো মাতামাতি। ইয়ানুজাইয়ের ঝলক ইউনাইটেড ভক্তরা দেখতে পেয়েছিল সামান্যই। উল্টো, নিয়মিত ‘ডাইভ’ দেন এমন অপবাদও জোটে কপালে। এখন খেলছেন রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে।

আমের জাকি। ছবি : এএফপি

আমের জাকি
মোহাম্মদ সালাহ আসার আগেও প্রিমিয়ার লিগ দেখেছিল এক মিসরীয় তারকার ঝলক। তিনি আমের জাকি। মিসরীয় ক্লাব জামালেক থেকে এক মৌসুমের জন্য উইগান অ্যাথলেটিকে ধারে এসেই শুরু করেন গোল করা। জাকির ফর্মের কাছে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ওয়েস্ট হাম, হাল সিটি, স্যান্ডারল্যান্ড, পোর্টসমাউথ—কেউই রক্ষা পায়নি। প্রথম মৌসুমে দশ গোল করেছিলেন। উইগানের সভাপতি ডেভ হুইলানের কাছে তিনি ছিলেন নতুন অ্যালান শিয়ারার। কিন্তু সে ফর্ম বাকি ক্যারিয়ারে আর কখনো দেখাতে পারেননি।

সিটিতে গিয়ে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন বেনজানি। ছবি : এএফপি

বেনজানি মোয়ারুয়ারি
ম্যানচেস্টার সিটি যখন নতুন মালিকের হাতে পড়ল। প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু নতুন তারকাকে দলে এনে দল ভারী করতে চাইল তাঁরা। রকি সান্তা ক্রুজের পাশাপাশি এই তালিকায় তখন নাম লেখালেন পোর্টসমাউথের জিম্বাবুইয়ান স্ট্রাইকার বেনজানি মোয়ারুয়ারি। পোর্টসমাউথের হয়ে দুই মৌসুমে আলো ছড়ানো এই তারকা সিটিতে এসে গোল করা ভুলে গেলেন। পরে ব্ল্যাকবার্ন, স্যান্ডারল্যান্ডের মতো ক্লাবেও খেলে গেছেন। কিন্তু সেই বিধ্বংসী বেনজানিকে আর দেখেনি কেউ।

লুইজ আদ্রিয়ানো। ছবি : এএফপি

লুইজ আদ্রিয়ানো
শাখতার দোনেতস্কের এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রাতারাতি নজরে আসেন ২০১৪-১৫ চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বে। এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার পাশাপাশি গ্রুপপর্বে নয় গোল করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসান। পরে এসি মিলানের মতো ক্লাবে জায়গা করে নেন তিনি। কিন্তু এসি মিলানের জার্সি গায়ে বড্ড সাদামাটা কেটেছে তাঁর সময়টা। অন্য কোনো ক্লাবের হয়েও পরে সেই ফর্ম দেখাতে পারেননি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *