টেলিভিশন নাটকে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে শৃঙ্খলা কমিটি

গতকাল শুক্রবার উত্তরার আপনঘর শুটিং হাউসের চিত্রটা ছিল একটু ভিন্ন। সেখানে সকাল থেকেই হাজির নাটকের আন্তসংগঠনের নেতারা। তাঁরা দেখভাল করছেন সঠিকভাবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে নিয়ম–শৃঙ্খলা মেনে শুটিং হচ্ছে কি না। নাটকের ১৪টি সংগঠন মিলে এই শিল্পের নিয়ম–শৃঙ্খলা তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তা বাস্তবায়ন শুরু হলো কাল থেকে।

কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। মানহীন নাটক, শুটিংয়ে বিশৃঙ্খলা, ঠিকমতো শুটিং সেটে অভিনয়শিল্পীর উপস্থিত না হওয়া, অভিনয়শিল্পীকে সময়মতো পারিশ্রমিক না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। সেখানে শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগ নিল টেলিভিশন নাটকের আন্তসংগঠনগুলো। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, টেলিভিশন চ্যানেলে নাটক চালাতে প্রযোজকের লাগবে অনাপত্তিপত্র। নাট্যকার, পরিচালক ও অভিনেতা—প্রত্যেককে নিজ নিজ সংগঠনের সদস্য হতে হবে টেলিভিশনে তাঁর কাজ প্রচার করতে। ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম-শৃঙ্খলা ফেরাতে অনাপত্তিপত্রসহ আরও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাঁরা।

গতকাল বিভিন্ন হাউসে পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা নিয়মনীতি মেনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে কাজ করছেন কি না, তা তদারকি করা হয়। অভিনয়শিল্পী সংঘ সূত্র জানিয়েছেন, তাঁরা উত্তরার বেশ কয়েকটি শুটিং হাউসে গেছেন। ঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করেছেন। তাঁদের একটি দল পুবাইল শুটিং হাউসেও যান। প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘মিডিয়ায় আমাদের যে ১৪টি সংগঠন আছে, আমরা কিছু টিম, কিছু উপকমিটি বিভিন্ন হাউসে যাচ্ছি। আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করব। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য নয়, এমন কেউ কাজ করবে না।’

এ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম একটি, টেলিভিশন চ্যানেলে নাটক চালাতে প্রযোজকের লাগবে অনাপত্তিপত্র। এ ছাড়া নাট্যকার, পরিচালক ও অভিনেতা—প্রত্যেককে নিজ নিজ সংগঠনের সদস্য হতে হবে টেলিভিশনে তাঁর কাজ প্রচার করতে হলে। এই নিয়মে অনেকেই আবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে নতুনদের কাজ করায় বাধা আসতে পারে। সৃজনশীল কাজের পথ রোধ হতে পারে। তবে এই প্রযোজক নেতা আশ্বাস দেন, নতুনদের জন্য সব পথই খোলা থাকবে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নতুনদের সদস্য হওয়ার জন্য সহজ উপায় আছে। এখনই আবেদন করলে তাঁর সংগঠন এখনই তাঁকে কাজ করার অনুমতি দিয়ে দেবে। আমরা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর আমরা আর কাজ করব না। ওভারটাইম দিয়েও কেউ কাজ করাতে পারবে না। সকাল ১০টায় ক্যামেরা ওপেন হতে হবে। তাহলে কোন শিল্পী কখন মেকআপ নেবেন, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। এক ঘণ্টা আগে লাইট করা শুরু হবে।’

গতকাল ৭০টির বেশি ফরম পূরণ করা হয়। তিনটি ইউনিটে গিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কাজ চলবে। এরপর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে সব সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে আরেকটা বড় ক্যাম্পেইনে যাওয়ার কথা জানালেন তাঁরা।

তবে সকাল ১০টা থেকে কাজ শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়ম বেঁধে দিলে, যাঁদের ভোরে শুটিংয়ের প্রয়োজন হবে তাঁরা কী করবেন? এ প্রসঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শৃঙ্খলা ঠিক করা এই নিয়মের উদ্দেশ্য, কোনো শুটিংকে বাধাগ্রস্ত করা নয়। বিশেষ কোনো প্রয়োজন থাকলে তার পথ অবশ্যই খোলা থাকবে। সে জন্য আগেই কথাবার্তা বলে নিতে হবে।

শুটিং হাউসে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে কাজ করছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের খায়রুল আলম সবুজ বলেন, শৃঙ্খলা দরকার কেন্দ্রীয়ভাবে। সেই কাজটাই আজ থেকে শুরু হলো। চিন্তাটা ভালো। সুসংগঠিত কাজ যেন সম্ভব হয়। বিভিন্ন সময় সমস্যা হবে, পরে তা ঠিক করে নিয়ে যাওয়া যাবে।

এই তদারকি আয়োজনে আন্তসংগঠনের সদস্য ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *