মাস্ক থেকে উল্টো বাড়ছে বিপদ!

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরপরই মাস্ক ব্যবহারের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে গেছে। কলকাতার ছবিও আলাদা নয়। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এক জনের মৃত্যুর পর মাস্ক ব্যবহারের ঝোঁক আরও বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই মাস্ক ব্যবহারে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি কমছে না বরং বাড়ছে। খবর আনন্দবাজার অনলাইন।

কী কী ব্যবহার করছে সাধারণ মানুষ?

অধিকাংশ মানুষের মুখে যে সব মাস্ক দেখা যাচ্ছে, তার তালিকায় রয়েছে—

• এন৯৫ মাস্ক।

• তিন স্তর বিশিষ্ট ডিসপোজাল সার্জিক্যাল মাস্ক।

• গেঞ্জি কাপড় ও স্পঞ্জের মাস্ক।

• কাপড়ের তৈরি মাস্ক।

• ওড়না বা রুমাল বেঁধে মাস্কের মতো ব্যবহার।

লাভ হচ্ছে কি?

সোজা কথায় বললে, এতে কোনো কাজের কাজ হবে না বলে জানিয়েছেন, মেডিসিন ও সংক্রামক অসুখের বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী। তার সঙ্গে সহমত বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ সুমিত সেনগুপ্তও। ভায়ারোলজিস্ট সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। তাদের মতে, এই ধরনের ভাইরাস কখনোই মাস্ক দিয়ে ঠেকানোর নয়।

তা হলে কি কেউ মাস্ক পরবেন না?

কারা কারা পরবেন, আর কারা পরবেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন মেডিসিন ও সংক্রামক অসুখের বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী। তার মতে-

• এন৯৫ মাস্ক একমাত্র তখনই প্রয়োজন, যদি কেউ  সরাসরি রোগীর কাছে থাকেন বা তার সেবা করেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তা ব্যবহার করবেন এবং যারা রোগীর এক মিটারেরও কম দূরত্বে দীর্ঘক্ষণ থাকবেন।

• সার্জিক্যাল বা অন্য ধরনের মাস্ক এ ক্ষেত্রে কোনো কাজে দেয় না। তবে যাদের সর্দি-কাশি হচ্ছে, তারা এই সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন। সেটা নিজের জন্য নয়, অন্যের শরীরে রোগ না ছড়ানোর সচেতনতা থেকে।

• অন্য কোনো ধরনের মাস্ক আর কোনো কাজে আসে না।

ডাস্ট অ্যালার্জি থাকলেও মাস্ক পরে লাভ নেই?

ধুলা থেকে বাঁচতে সাধারণ মাস্ক কোনো কাজে আসে না। এই সব মাস্ক ধুলার ক্ষুদ্র কণা আটকাতে পারে না। আর ধুলার সঙ্গে করোনার কোনো যোগসূত্র নেই। এটা বায়ুবাহিত রোগের তালিকাতেও পড়ে না। কেউ ধুলা এড়াতে মাস্ক পরতে চাইলে তারা সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন।

মাস্কে রিস্ক ফ্যাক্টর কী কী?

• এন৯৫ মাস্কের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ ভাইরাস মরে। কিন্তু এই মাস্ক সব সময় পরে থাকা যায় না। একটানা ১০ মিনিট পরে থাকলেও নানা সমস্যা হয়। নাক-কানে চাপ  পড়ে। কানে ব্যথা হয়। একটা সময়ের পর দমবন্ধ লাগে। তাই এই মাস্ক পরলে বার বার তা নামিয়ে রাখতে বাধ্য হন মানুষ। কখনও কখনও নাকে-মুখে হাত দিয়ে তা ঠিক করতে হয়। এতেই ক্ষতি বাড়ে।

• আর কোনো ধরনের মাস্ক এ ক্ষেত্রে খুব একটা কাজে লাগে না। তা ছাড়া যে কোনও মাস্কই গরম লাগার পর খুলে ফেলছেন অনেকে।  এতেও হাত লাগছে মাস্কে।

• মাস্ক পরার পর মাঝেমধ্যেই তা ঠিক করতে তাতে হাত দিচ্ছেন সবাই। এতে হাতের জীবাণু মাস্কে যাচ্ছে। মাস্কের উপরিভাগের জীবাণু মিশছে হাতে। ফলে কাজের কাজ তো হচ্ছেই না, উল্টে ক্ষতি বাড়ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *