রং হারিয়েছে আজকের স্বাধীনতা দিবস

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবগাঁথা দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল বীর বাঙালি। এক দুই করতে করতে ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে এসে দাঁড়িয়েছে গর্বিত বাঙালি জাতি। কিন্তু এবারের স্বাধীনতা দিবসকে ম্লান করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গণহত্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে হত্যা করা হয় অসংখ্য মানুষকে। সেই রাতে সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। মুক্তি সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণায় বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানায় ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। কোনো আপোস নাই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করবেন। সকল দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা প্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবেন। জয় বাংলা।’

এরপর গঠিত হয় প্রবাসী সরকার। তাদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান, দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম আর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বিজয়। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল বিশাল। বাঙালি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চেয়েছিল। চেয়েছিল এমন একটি রাষ্ট্র, যা প্রতিষ্ঠিত হবে কিছু আদর্শের ভিত্তির ওপর। স্বাধীনতা দিবস আবার এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেসব আদর্শের দিকে ফিরে তাকানোর দাবি নিয়ে।

কিন্তু মরণঘাতক কারোনাভাইরাসের কারণে এ বছর স্বাধীনতা দিবস যেন রং হারিয়েছে। কারণ ভয়ংকর ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের সকল অনুষ্ঠান। তবে পুরো জাতি যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জয়ী হবে এই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *