করোনায় স্বামীর মৃত্যু পর কোয়ারেন্টিনে বৃদ্ধার একা জীবন

বাহাত্তর বছর বয়সী সাবেক স্কুল শিক্ষিকার দিন আর কাটে না। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার চারতলা বাড়িটায় বুড়ো-বুড়ির দিন কাটছিল ভালোই। মাঝে মাঝে আলাদা থাকতে হয়েছে, তাও অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে গেলে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তাঁর ৫৩ বছরের সংসার লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

কথা হচ্ছিল বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে মৃত সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে। গতকাল রোববার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শারীরিক নানা জটিলতায় তিনি একরকম শয্যাশায়ী। আগেও ঘরের বাইরে যেতে পারতেন না, এখনো যান না। তবে সেই সময়ের সঙ্গে এই সময়ের দুস্তর ফারাক। আগে অনেকে দেখতে আসতেন। দিন কাটত ধর্ম-কর্ম করে, অতিথি অভ্যাগতদের সঙ্গে কথা বলে আর আইপ্যাডে প্রবাসী সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কথা বলে। এখন আর কেউ আসেনি সংক্রমণের আশঙ্কায়। তিনিও চান না​ তাঁর কছে এসে কেউ বিপদে পড়ুক। তিনি আছেন সেলফ কোয়ারেন্টিনে আছেন। ফ্রিজে মাছ-মাংস আছে যথেষ্ট, চাল-ডালেরও অভাব নেই। কিন্তু রাঁধবার মানুষ নেই। করোনাভাইরাসে স্বামীর মৃত্যু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশের লোকজনের তোড়জোড়ের মধ্যেই গৃহকর্মীও পালিয়ে গেছেন। এখন এক ভাগনে টুকটাক যা রাঁধেন তা-ই খান, কখনো কখনো এক প্রতিবেশী, কখনো কাছে থাকা বোন খাবার পাঠান। সেগুলো খান।

মানুষের মধ্যে ভীতি এখন মারাত্মক, এবং সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন সাবেক এই স্কুল শিক্ষিকা। শুনেছেন তাঁরা নজরদারিতে আছেন।
ঠিক কি হয়েছিল স্বামীর? গত ১৮ মার্চ সকালে মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ জানায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন তাঁর স্বামী। তাঁর প্রবাসী দুই মেয়ে ঢাকায় এসেছিলেন দশদিনের ছুটিতে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। হৃদ্‌রোগে ভোগা স্বামীর বুকে ব্যথা হচ্ছিল প্রায়ই। বাবার কি হয়, না হয় এই ভেবেই চলে এসেছিলেন তাঁরা। ছোট মেয়েটার ধুলোয় অ্যালার্জি। প্রতিবারই দেশে এসে হাঁচি-কাশিতে ভোগেন। এবারও অন্য কিছু মনে হয়নি। দিন দুয়েক পর আর হাঁচি-কাশিও ছিল না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *