রাজনীতিতে সক্রিয়া হচ্ছেন খালেদা জিয়া!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে দেশের রাজনীতিতে। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন- খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন মানবিক কারণে। মরণব্যাধি করোনায় সৃষ্ট সঙ্কটকালে তাকে মুক্তি দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিতে কোনো পক্ষই হারেনি। তার এ মুক্তিতে দুই পক্ষই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে। এতে করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি হবে। তবে দলের বর্তমান যে অবস্থা তা ফিরিয়ে আনতে শুধু চিকিৎসার জন্যই নয়, ঘরের মধ্যে থেকে হলেও রাজনীতির মাঠে সরব হবেন খালেদা জিয়া। এমনটাই দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন- ‘মানবিক বিবেচনায়’ খালেদা জিয়ার মুক্তিতে রাজনৈতিক চাওয়া পূরণ হয়েছে তাদের। দুই শর্তে মুক্তি পেলেও বিএনপি বলছে, রাজনৈতিকভাবে তারাও লাভবান হয়েছে। মুক্তির সময়টি সরকারি দলের জন্য সুবিধাজনক হলেও বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার প্যারোলে মুক্তি নেয়ার সুযোগ থাকলেও তা তিনি নেননি। সরকারই সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনে করে, এ মুক্তির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদারতার পরিচয় দিয়েছেন; যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। তার এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলেও মনে করছেন তারা।

অপরদিকে শর্ত সাপেক্ষে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তিতে স্বস্তি ফিরেছে বিএনপিতে। এখন দলের নীতিনির্ধারকদের সব মনোযোগ খালেদা জিয়ার শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে। যদিও তিনি সুস্থ-সবল হয়ে আবার রাজনীতিতে কীভাবে সক্রিয় হবেন, সে চিন্তাও করছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে এই মুহূর্তে কারাবন্দিত্বের চাপ কাটিয়ে দলীয় প্রধানকে সুস্থ রাখাই নেতাদের মূল চিন্তা।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায় ফেরার পরপরই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎ​সকেরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাঁর সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন চিকিৎ​সক ও একজন নার্স। নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিগগিরই তাঁর চিকিৎ​সা শুরু হবে। এরই মধ্যে খালেদা জিয়াকে কোয়ারেন্টিন বা সঙ্গনিরোধ রাখা হয়েছে। তিনি ফিরোজা ভবনের দোতলা থাকছেন। সেখানে নিকটাত্মীয়দের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কক্ষে যেতে হলে পাশের আরেকটি কক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে চিকিৎ​সার বাইরে খালেদা জিয়াকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবছেন না দলের নীতিনির্ধারকেরা। তাই যে দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপি সতর্ক থাকবে। সরকার রুষ্ট হয়ে ভিন্ন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচি নেবেন না নেতারা।

তাঁরা মনে করছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন, এটাই স্বাভাবিক। তিনি কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে দল পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই আইনিভাবে খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে না আসা পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই দল পরিচা​লিত হবে।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে খালেদা জিয়ার পরিবারের পর্দার অন্তরালে কয়েক দফা আলোচনা হলেও সবাই একবিন্দুতে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশে প্রায় অর্ধশত আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা নমনীয় হন। এতে বিএনপি ও বেগম জিয়ার চাওয়াও পূরণ হয়েছে।

যদিও খালেদা জিয়ার এই মুক্তিতে বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের কোনো কৃতিত্ব নেই। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে তাদের দল ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার উদারতায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হয়েছে।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *