করোনাকালে স্বাস্থ্য সচেতনতায় ধর্মীয় নির্দেশনা-মুফতি ফয়জুল্লাহ

করোনাকালে স্বাস্থ্য সচেতনতায় ধর্মীয় নির্দেশনা

মুফতি ফয়জুল্লাহ- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা চলমান মহামারীর ভয়াল থাবা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিচ্ছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই মহামারী থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। আমরা জানি, দুনিয়া জানে, মহামারী থেকে বেঁচে থাকার উপায় আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪শ’ বছর আগেই ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবী, রাহমাতুল লিল ‘আলামীন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর মূল্যবান পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যে কোন মহামারী থেকে অনেকাংশে বেঁচে থাকা যায়। আমি আগেও এসব বিষয়ে কিছু আলোকপাত করেছি।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনী বিষয়ে যেমন পরিপুর্ণ, নির্ভূল এবং অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তেমনিভাবে পার্থিব ও স্বাস্থ্য বিষয়েও তার মহামূল্যবান পরামর্শ আমাদের বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। মহানবী সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি নির্দেশনা ও পদক্ষেপ মানবতার মুক্তির সনদ। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে দুনিয়া-আখেরাত, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ- প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তার দেয়া কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে ‍মুমিনের জীবনে বয়ে আসবে সফলতা,কামিয়াবি এবং প্রশান্তি।

* বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সবাই এখন বলছেন, নিজেকে জীবাণুমুক্ত রাখুন, দু হাত ধৌত করুন।’ মহানবী অনেক আগেই এসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগ্রহণের কথা বলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

” ويحب المتطهرين. ” এবং তিনি পবিত্রতাবাদীদের পছন্দ করেন। ( বাকারা ২২২ ) ।

‎’واذا قمتم الى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وايديكم الى المرافق وامسحوا برؤوسكم وارجلكم الى الكعبين.’ ‘যখন তোমরা নামাজ আদায়ের ইচ্ছা করো, তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল এবং উভয় হাত কনুইসহ ধৌত কর। মাথা মাসাহ করো এবং পা গিটসহ ধৌত করো ।’ ( মায়েদা ৬ )

যেহেতু আমরা মুমিন, তাই আমরা সব সময় বাঅজু থাকার চেষ্টা করবো এবং অজু থাকলেও প্রতি ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য আবার অজু করবো। এতে অজু আলাল অজুর সাওয়াব পাবো । হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে ‘পবিত্রতা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা) ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ’ (মুসলিম শরীফ)।

এ ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন,

اذا استيقظ احدكم من نومه فلا يغمس يده في الاناء حتى يغسلها ثلاثا فانه لا يدري اين باتت يده

‘ঘুম থেকে জাগার পর তিনবার হাত ধৌত না করে পাত্রে হাত প্রবেশ করাবে না। (ঘুম থেকে জাগার পর হাত ধৌত করো। )কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে, তা তুমি জান না।’

আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)। ইত্যাদি। যদি আমরা পবিত্রতা অবলম্বন করি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি, তবে মহামারী বিস্তৃতি লাভ করতে পারবে না-ইনশাআল্লাহ। যদি কেউ প্রতিদিন পাঁচবার ভালোভাবে আজু করি, তবে জীবানুগুলো আর বেঁচে থাকার পথও খুঁজে পাবে না।হ্যা, বিশেষজ্ঞরা হাত ধোয়ার যেসব পদ্ধতি বলে দিয়েছেন, তাও রপ্ত করুন এবং মেনে চলুন।

** মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসা এবং ওষুধ গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ কোনো রোগ তার প্রতিকার না দিয়ে তৈরি করেননি।’ সবচেয়ে বড় কথা, নবীজী এটা বলেননি যে, তুমি শুধু দু’আ করে বসে থাকবে, বরং তুমি দু’আ’র পাশাপাশি চিকিৎসাও নেবে। মহামারী থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মগুলিও মেনে চলবে।

এর উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়। তিরমিজী শরীফে হাদীসে এসেছে, ‘একদিন মহানবী এক বেদুইনকে তার উটটি না বেঁধে চলে যেতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখছো না কেন?’ জবাবে বেদুইন বললেন, ‘আমি আল্লাহর উপর ভরসা রাখছি।’ তখন নবীজী বললেন, ‘তোমার উটটি আগে বেঁধে রাখো,তারপর আল্লাহ উপর ভরসা রাখো।’

*** মহানবী নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি কোনো পাত্রে নিঃশ্বাস প্রক্ষেপণ করতে এবং তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন (আবু দাউদ শরীফ)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না।(ইবনে মাজাহ শরীফ)। এমনিভাবে হাঁচি দিলে হাত ( হাতের পিঠ ) অথবা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে ফেলতেন এবং আওয়াজ কম করতেন।(তিরমিজী শরীফ)

সাম্প্রতিককালে ভয়াবহ মহামারীর থাবায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে বহু রোগী চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়, সেটাই সবাইকে ভাবাচ্ছে। আমরা দেখছি ইসলাম অনেক আগেই আমাদেরকে মহামারী থেকে বাচার উপায় শিখিয়ে দিয়েছে। তথাপি আমরা বলি,
বিশেষজ্ঞরা হাত ধোয়ার যেসব পদ্ধতি বলে দিয়েছেন, সেগুলো রপ্ত করুন। তাদের দেয়া নির্দেশনা মেনে চলুন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

এছাড়া সুস্থতার জন্য ইসলাম ধর্মে আরো অনেক উপায়ের কথা বলা হয়েছে। যেমন, কুলি করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া দেয়া, আঙ্গুল খিলাল করা, নখ কাটা এবং গোফ ছাঁটা। যে ব্যক্তি এ সকল উপায় অবলম্বন করবে, সে রুদ্ধ করে দিতে পারবে শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের প্রবেশ পথ-ইনশাআল্লাহ

সূত্র-

Mufti Fayezullah ফেসবুক

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *