ফুফাত বোনকে ধর্ষণ করলো মামাত ভাই, অতঃপর ঘটলো এক ভয়ানক কান্ড

বাবা-মা প্রবাসে। এর সুবাধে মাদারীপুরের মেয়ে আঁখি আক্তার থাকেন মামার বাড়ি। আর এই সুযোগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাসায় কেউ না থাকায় মামাতো ভাই তরিকুল ইসলাম ধর্ষণ করে আঁখিকে। আঁখি পল্লবীর শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন।

ধর্ষণের পর এ ঘটনা সবাইকে বলে দিবে বলতেই আঁখিকে বালিশ ও কাঁথা চাপা দিয়ে হত্যা করে তরিকুল। হত্যার পর ল্যাগেজে লাশ নিয়ে রিকশায় করে পল্লবীর বাসা থেকে ই’সিবি চ’ত্বরে যায় তরিকুল। পরে সিএনজি নিয়ে পৌঁছান বিমানবন্দর চ’ত্বরে এরপর দোকানের সামনে ব্যাগ রেখে আরেকটি ব্যাগ কেনার কথা বলে পালিয়ে যায় তরিকুল।

পরে আঁখিকে নিখোঁজ দেখে, মামা নূর ইসলাম প্রথমে জিডি করেন এবং লাশ উদ্ধারের পর মামলা করেন। ফুফাতো বোন আঁখি হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে সবকিছুতে সক্রিয় ছিলো তারিকুল ইসলাম রায়হান (৩৫)। লা’শ উদ্ধারের পর তার কান্নাকাটি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমনকি আঁখির কবরও জিয়ারত করেছিলো তরিকুল।. লাশ গুম করতে নানা চেষ্টা করেছিলো সে।

হত্যার পর আঁখির গলার স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে রায়হান। চেইন বিক্রির কিছু টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলো একটি বড় ব্যাগ। ব্যাগ নিয়ে সকাল ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয় রায়হান। চাচা রোকন খান সিঁড়ির নিচে দেখা পেয়ে জানতে চান, ‘ব্যাগে কী’? ‘জিন্সের প্যান্ট উত্তর দিয়েছিল রায়হান। প্যান্ট ব্যবসায়ী ভাতিজার কথায় সন্দেহ হয়নি চাচার। অটোরিকশায় করে ব্যাগ নিয়ে রেললাইনে। চালক সন্দেহ করতে পারে ভেবে রেললাইনে না ফেলে চলে যায় বিমানবন্দর রেলস্টেশনে।

আপন ফুফাতো বোন আঁখিকে ধর্ষণ শেষে হত্যার পর এভাবেই অপরাধ লুকাতে চেয়েছিল রায়হান। হত্যার পর ‘নিখোঁজ’ আঁখিকে খুঁজেছে রায়হানও। লাশ উদ্ধারের পর কান্নাকাটি করেছে। এত কিছুর মধ্যেও পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পাঁচ দিন স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে রায়হান। মা-বাবা, স্ত্রী কারোরই সন্দেহ হয়নি তাকে।

মেয়ে হত্যার খবর পেয়ে বিদেশে (মরিশাস) থেকে আঁখির বাবা বেলায়েত হোসেন আরিফ দেশে ফিরে আসেন। তারও সন্দেহ হয়নি রায়হানকে। আঁখির বাবার সঙ্গে কবর জিয়ারত করতে মাদারীপুরের কালকিনির গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছিলো সে।

লাশ ভর্তি ব্যাগ ফেলে যাওয়ার পরদিন গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ভোরে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এলাকা থেকে কালো ব্যাগ থেকে আঁখির লা’শ উদ্ধার করল পুলিশ। পরে রায়হানের মা-বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে নেয় রেলওয়ে থানা পুলিশ। আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা আঁখির লা’শের সঙ্গে থাকা একটি কাঁথা রায়হানের মা-বাবাকে দেখানো হয়। তারা পুলিশকে জানান, এটি আঁখির কাঁথা। ওই কাঁথা গায়ে

দিয়ে আঁখি ঘুমাত। এরপরই পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয় যে রায়হানই খুনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুরের কালকিনি থানার আন্ডারচর গ্রামের বাড়ি এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *