উৎসুক জনতাকে ঘরে ফেরাতে সক্ষম সাতক্ষীরা পুলিশ

ঘড়ির কাঁটায় বেলা সাড়ে ১১ টা। সাতক্ষীরা শহরের ব্যস্ততম এলাকা নিউমার্কেট মোড়। যেখানে গতকাল পযর্ন্ত ছিলো যানজট আর লোকজনের হুড়োহুড়ি। অথচ আজ বৃহস্পতিবার (০২এপ্রিল) রাস্তা-ঘাট একেবারে ফাঁকা। নেই লোকজন, নেই কোনো যানবাহন। পথচারীদের সংখ্যাও হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন। কিন্তু এসবের মূলে কি ? মূলে রয়েছে পুলিশের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার দাওয়াই। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (পিপিএম বার) রীতিমতো ঘোষনা দিয়েই মাঠে নেমেছেন। সকাল থেকেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা হেলমেট পরে ডান্ডা হাতে সটান রাস্তায়। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, পিকআপ দেখলেই পিছু ধাওয়া। অনেককে পিটাতেও দেখা গেছে। এসব দেখে বাকীরা সটকে পড়েছেন শহরের রাস্তাগুলো থেকে। এমনকি রাস্তার ধারে খুলে রাখা দোকানীরাও ডান্ডার ভয়ে শার্টার টেনে চুপটি মেরে রইলেন। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের সদর হাসপাতাল, নারিকেলতলা, পাকাপুল ও তুফান কোম্পানির মোড়ে।

 

তবে হ্যা, পুলিশের এসব ডান্ডা মারাকে সমর্থন করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, এটি আরো আগে দরকার ছিলো। বাঙালি ভালো কথা কানে নেয় না। করোনা  ভাইরাসে সারা বিশ্ব যেখানে মহামারিতে আক্রান্ত। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। এসব ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। কোটি কোটি মানুষ যেখানে গৃহবন্দি। সেখানে বাংলাদেশের মানুষ কেনো এতো অসচেতন। কেনো রাস্তাঘাটে ভিড় করে পরিবেশ নষ্ট করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সাতক্ষীরা শহর নয়, জেলার সকল উপজেলাতেও চলছে পুলিশের একই কার্যক্রম। সকল থানার অফিসার্স ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ডান্ডা হাতে রাস্তায় নেমেছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য করোনার হাত থেকে বাঁচাতে মানুষদের ঘরে ফেরানো।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে জনসাধারণ যেনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসেন। লিফলেট বিতরণ করে সচেতনতাবৃদ্ধির কাজ করা হচ্ছে। অসহায় দিনমজুরদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এরপরও কারণ ছাড়াই জনগণ রাস্তায় নেমে পরিবেশ নষ্ট করে প্রাণঘাতি করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যত্রতত্র দোকানপাট খুলে সেখানে আড্ডা মারার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। যে কারণে পুলিশ কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় সবসময় পুলিশ জনগণের পাশে ছিলো- এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এরজন্য যাকিছু করার পুলিশ করবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি যেসকল যান বাহন চলাচল করার অনুমতি রয়েছে সেগুলো চলবে। নির্দেশনা অনুযায়ি শুধুমাত্র সেইসবই দোকান-পাট, প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এর বাইরে কোনো কিছু মেনে নেওয়া হবে না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *