করোনা কুকুরের হিংস্রতা কমিয়ে দিয়েছে কমেনি শুধু মানুষের হিংস্রতা- সাইমুম সাদি।

১৩ই এপ্রিল, সোমবার, ২০২০

ক্ষুধার্ত কুকুর

দ্যা ভয়েস অফ ঢাকা প্রতিবেন ডেস্ক- সাইমুম সাদিঃ  একটা কুকুর এসে আমার পাজামায় মুখ ঘষতে থাকে অনবরত।

আমার হাতে কাচা বাজারের ব্যাগ। ব্যাগের গায়ে স্বপ্ন চেইন শপের সিল মারা। লক ডাউনের কারণে স্বপ্ন থেকে বাজার করে বাসায় ফিরছি দ্রুত গতিতে। দুপুর দুটোর মধ্যে বাজারের কাজ সারতে হবে।

পাশের দোকানের মালিক চিল্লায়ে উঠলো, ওই কুকুর আর জায়গা পেলি না, হুজুরের পাজামায় মুখ লাগালি ব্যাটা৷ হুজুর নামাজ পড়বে কেমনে?

প্রাথমিকভাবে আমিও হতভম্ব, আউ শব্দ করে পিছিয়ে এলাম। কিন্তু হাতে বাজারের ব্যাগ, কুকুর তাড়াতে পারলামনা। ও এখন আমার আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে দাড়িয়ে রইলো।

ঘটনার আকস্মিকতায় ব্যাগ নিচে রেখে কুকুর তাড়ানোর জন্য কিছু খুজতেই কুকুরের চোখে চোখ পড়লো আমার। সূর্যের আলোয় কিছু একটা ঝিলিক মেরে উঠলো যেন। খুব ভাল করে তাকালাম। দেখলাম –

দেখলাম কুকুরের চোখে মুখে কোনো হিংস্রতা নেই, চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। ও আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে –

তার ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসা কংকালসার শরীর দেখে বুঝলাম, উপোস সম্ভবত কয়েকদিনের, কিছু খেতে চায়, হুজুরের পোশাক দেখে কাছে এসে মুখ ঘষছে…

দুটো পাউরুটি তখনও আমার ব্যাগের ভেতরে। একটা খোলে বাড়িয়ে দিলাম ওর দিকে। খেতে লাগলো চুপচাপ। কোনো চিৎকার নেই, চিল্লাচিল্লি নেই।

কিন্তু তারপরই ঘটলো সবচেয়ে অবাক করা দৃশ্য। পাউরুটির বাকি অংশ হাত থেকে ছো মেরে মুখে নিয়ে দৌড় দিলো গলির অপর দিকে। গিয়েই দিলো একটা চিৎকার।

মূহুর্তেই ঘেউ ঘেউ করে হাজির হলো আরও দুটো কুকুর। ওদেরকে সে দিয়ে দিলো পাউরুটির বাকি অংশটা। শান্ত শিষ্ট ভাবে খেতে লাগলো দুজন।

উপরের ঘটনাটা এক সপ্তাহ আগের।

কিন্তু এরপর সমস্যা হয়েছে ওরা তিনজন সারাদিন বসে থাকে আমার বাসার গেটের সম্মুখে৷ কখনো তিনজন কখনো একজন। আমি সারাদিনে একবার বের হলেই সবাই জড়ো হয়ে পিছনে পিছনে হাটতে থাকে। গতকাল দেখলাম আরও দুইজন যোগ হয়েছে ওদের দলে।

পাচটি কুকুর হাটতে থাকে পেছনে পেছনে। অসাধারণ একটি দৃশ্য।

ফোনে আম্মাকে ঘটনা বললে তিনি বললেন, আমার আব্বার পেছনেও ঘুরত দশ বারোটা কুকুর। এদের সবাইকে রাতের ডিনার করাতেন তিনি। আজব ব্যাপার।

আপনারা যে যেখানে আছেন দয়া করে ওদের প্রতিও খেয়াল রাখবেন।

লক ডাউন এবং করোনা কুকুরের হিংস্রতা কমিয়ে দিয়েছে। ওরা একসাথে হাটে, ঘুরে খায়। শুধু মানুষের হিংস্রতা কমেনা৷ পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে তারা।

এইসব মানুষের কি খুব প্রয়োজন আছে এই পৃথিবীতে?

সাইমুম সাদী

vd-13042020

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *