ইতিবাচক নজরে দেখার টেন্ডেন্সিটা এখনও গড়ে উঠেনি।

বৃহঃস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২০

কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা- মুহতারাম রশীদ জামীল

দ্যা ভয়েস অফ ঢাকা প্রতিবেন ডেস্ক:  মসজিদ তো বন্ধ করা হয়নি, তাহলে খুলে দেওয়ার দাবি জানাতে হবে কেন? মুসল্লি-সংখ্যা লিমিটেড করা হয়েছে। এখন এই লিমিটেশনের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মসজিদগুলো যদি মুসল্লিতে ভরপুর হতে থাকে, আর ভাইরাস অন্যভাবেও স্প্রেড করে, তাহলে দায়-দায়িত্ব কাদের উপর চাপানো হবে?

বিষয়টি স্পর্শ কাতর। মসজিদ এবং নামাজ সংক্রান্ত। তাই কথা বলতেও ভয় লাগে। আবার পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতার কিছু অংশ নিজ চোখে দেখছি বলে কথা না বলেও থাকা যাচ্ছে না।এটা নিজের ইমানের কমজুরির কারণেই হচ্ছে- বুঝতে পারি। কী আর করা।

‼️ কয়েকটি হিসাব মিলাতে পারছি না। এই যেমন,
১. নামাজে গায়ের সাথে গা মিলিয়ে দাঁড়াতে হয়। অনিবার্য কারণে এই বিধান শিথিল হতে পারলে সংখ্যাতত্বে কেন পারছে না!

২. দুই কাতারের মধ্যখানে এক কাতার পরিমাণ জায়গা খালি রাখার বিধান ছিল না। অনিবার্য বাস্তবতায় এখানে নমনীয়তার সূত্র অ্যাপ্লাই করা গেলে সংখ্যাতত্ত্বে কেন যাচ্ছে না!

৩. যেদেশের মুসলমান কোন ৫ জন জামাতে শরিক হবেন- এ নিয়ে মারামারি করে একজন মারা যান, সেদেশের মুসলমান এতসব ম্যান্টেনেন্স ফলো করে নামাজ আদায় করবে- কতটুকু আস্থা রাখা যায়?

৪. যেদেশের মানুষের মধ্যে এতবেশি ভালবাসা যে, পুলিশ লাঠিপেটা করেও একজন থেকে আরেকজনকে আলাদা করতে পারে না, সেদেশের মানুষ দূরত্বের গুরুত্ব বুঝে নামাজে দাঁড়াবে- এটা সম্ভব? তাছাড়া মসজিদে তো জায়গাও থাকতে হবে। শুনেছি স্মরণকালের সর্বোচ্চ-সংখ্যক মুসল্লি আজকাল মসজিদমূখী হয়েছেন।

৫. মহামারির কারণে হযরত আমর ইবনুল আস রাযিআল্লাহু আনহু মুসলমানদের পাহাড়ে গিয়ে আত্মরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন কেউ কারো সঙ্গে মিলিত হয়ো না। হযরত আমরের ঐতিহাসিক সেই বক্তব্যের মোটিভ পয়েন্টটা কেন আমরা ভুলে যাচ্ছি!

‼️ ফতওয়া দেবেন বিজ্ঞজন, মুফতিগণ। তাঁরা হলেন অথরিটি। তাঁদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার অধিকার আমাদের নেই, কিন্তু শংকার জায়গাটি তুলে ধরার অধিকার তো আমাদের থাকা উচিত। আমরা তাই করছি। অনেক কথা বলতে চেয়েও বলতে পারছি না। আমাদের আঙিনায় ভিন্নমতকে ইতিবাচক নজরে দেখার টেন্ডেন্সিটা এখনও গড়ে উঠেনি।

জানি না সামনের একমাস কী অপেক্ষা করছে। রমজানের খাতিরে আল্লাহপাক হয়তো তাঁর মাখলুকের উপর থেকে এই আপদ সরিয়ে নেবেন। তাই যেন হয়। যদি না-হয়, সময়ের নাজুকতায় আমরা হয়তো সম্মিলিত ঔদার্যের ছাড় দেওয়া দেখব। আফসোস! এখনই যদি দেখতাম!

vod-16042020

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *