এমপি লিটন হত্যা মামলায় ৭ জনের ফাঁসি

 

বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রায়ে ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলার বিচারক জেলা ও দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- ওই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আব্দুল কাদের খান এবং তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি হাসান, শাহীন মিয়া, রানা ও চন্দন কুমার রায়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চন্দন কুমার রায় পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের দিন থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হবে বলে বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছেন। মামলার অপর আসামি সুবল কসাই কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ ১৮ মাস যুক্তিতর্কের পর এই রায় ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় আসামিদের জেলা কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। ১১টা ৪০ মিনিটে বিচারক ওই ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল।

তদন্ত শেষে কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কাদের খানের বগুড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকেই তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে আবেগ আপ্লুত হয়ে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। কাদের খানের কিলাররা তার বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে তার স্বামী এমপি লিটনকে হত্যা করে। সে জন্য কাদের খান এবং তার সহযোগীদের একমাত্র ফাঁসির আদেশই কামনা করেছে তার পরিবার।

এ ছাড়া উচ্চ আদালতেও এই ফাঁসির রায় বহাল থাকবে এবং এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার শাসনামলেই এ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই তিনি দ্রুততম সময়ে তার স্বামী হত্যার বিচার পেয়েছেন।

এই মামলার বাদী লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল বলেন, এ রায়ই তিনি এবং লিটনের পরিবারের সবার প্রত্যাশা ছিল। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এই রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তিনি এবং বাদীসহ প্রয়াত এমপি লিটনের পরিবারের সদস্যরা এই রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আদালতে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই, কেননা আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এমপি লিটনকে যেভাবে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আসামি কাদের খানকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কারণ এ হত্যাকাণ্ডের সময় কাদের খান ভারতে অবস্থান করছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব বলে তিনি জানান।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *