জুমার নামাজ আদায় করতে ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লির ঢল নামে। সকাল থেকে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন ইজতেমা মাঠে

আগামী বছর জানুয়ারি মাসে ঢাকার টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আলমী শূরার তাবলিগি সাথীদের জোড় ইজতেমা।

শুক্রবার বাদফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় জুমার নামাজ আদায় করতে ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লির ঢল নামে। সকাল থেকে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন ইজতেমা মাঠে।

দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া জুমার নামাজের ইমামতি করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের খতিব ও তাবলীগে জামাত বাংলাদেশের প্রধান মুরব্বি মাওলানা হাফেজ যোবায়ের আহমেদ। এতে প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করে।

ইজতেমায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি অংশ নিয়েছেন। বয়ান মঞ্চের পেছনে কাছে প্রবেশ পথের বাম পাশে আলাদাভাবে জায়গা করা হয়েছে বিদেশি মেহমানদের থাকার ব্যবস্থা। এতে ৮টি জামাতে মোট ১৫০জন বিদেশি মেহমান ইতিমধ্যে অবস্থান করছে ইজতেমাস্থলে।

ইজতেমা কমিটির সদস্য পাহারাদার ও জিম্মাদার মেখল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী যুগান্তরকে বলেন, প্রায় ৭০ জন আমিরের নেতৃত্বে ১৫টি জেলার ১ চিল্লা, ৩ চিল্লা ও সাল দেয়া আলমী শূরার তাবলিগী সাথীরা এ জোড় ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রসহ লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বতঃফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি এবং ইজতেমা উপলক্ষে দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূলত এ জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব ইজতেমার সফলতার জন্য পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাওলানা সাদ আহমাদ কান্ধলভী ও মাওলানা যোবায়ের আহমেদ অনুসারীদের মধ্যে সংঘাতের পর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমবারের মতো হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইজতেমার মূল মাঠে অবস্থানের জন্য উত্তর-দক্ষিণ প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট খোলা জায়গায় বিশালাকৃতির প্যান্ডেলসহ আশেপাশে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মুসল্লির অবস্থান নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। তবে শনিবার ও রোববার আরও বেশি মুসল্লি অংশ নিতে পারে বলে মনে করছেন মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী।

জানা গেছে, শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি মাওলানা আব্দুল বার এর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে তিনদিন ব্যাপী জোড় ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এ বয়ান ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে। এরপর শুরু হয় মুসল্লিদের মধ্যে তালিম।

এ সময় প্রতিটি গ্রুপে ২৫-৩০ জন করে তালিমে অংশ নেন। জুমার নামাজের পর আলমি শুরার তাবলিগ জামাতের চট্টগ্রাম জিম্মাদার ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতী জসিমুদ্দীন বয়ান করেন।

এছাড়া আছর, মাগরিব ও এশার নামাজের পর তাবলিগ জামাতের শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বিরা ইমান, আমল, আখলাক, ইহকাল ও পরকালসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করেন।

এদিকে ইজতেমার নিরাপত্তায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এমনটা দাবি করে হাটহাজারী থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম যুগান্তরকে জানান, ইজতেমাস্থলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ইজতেমার সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *