হাটহাজারী মাদরাসার নতুন নায়েবে মুহতামীম আল্লামা শেখ আহমদ।

উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারীর মজলিসে শূরার বৈঠকে তিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় মজলিসে শূরার বৈঠক চলে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। বৈঠকে মাদরাসার বিষয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে, এক. মাদরাসার মুহতামিম পদে অমৃত্যু বহাল থাকবেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী। দুই. আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সহকারী মুহতামিমের পদ থেকে অব্যহতি তিন. মাদরাসার সহকারী মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আল্লামা শেখ আহমদ।

বৈঠকটি মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মাওলানা নোমান ফয়জী শুরা কমিটির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কমিটি মজলিশে শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে শেখ আহমদকে সহকারী মুহতামিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সাল থেকে এ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মজলিশে শূরার বৈঠকে আল্লামা শফীর দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করার জন্য মাদরাসার সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকে মাদরাসার বিগত দিনের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা হয়। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আল্লামা শফী আমৃত্যু মাদরাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অবর্তমানে মজলিসে শূরা সিদ্ধান্ত নেবে মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে।

হাটহাজারী মাদরাসার শূরা কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কওমি মাদরাসা ও ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ আল্লামা আহমদ শফী মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করতে পারেন- এমন গুঞ্জন শুরু হয়। গত মে মাসের শুরু থেকে মাদরাসার ভেতরে-বাইরে এ গুঞ্জন প্রকাশ্যে আলোচনা-সমালোচনায় রূপ নেয়। শেখ আহমদের নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর অবসান হলো।

দারুল উলূম হাটহাজারীর ১১ জন শূরা সদস্যের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এক. আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস। পরিচালক ও শাইখুল হাদীস, জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা। কো-চেয়ারম্যান, হাইয়াতুল উলয়া। দুই. আল্লামা মুফতি নুরুল আমিন। নায়েবে মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, ফরিদাবাদ মাদরাসা ও যুগ্ম-মহাসচিব, বেফাক। তিন. নুরুল ইসলাম জিহাদী। পরিচালক, মাখজানুল উলূম মাদরাসা খিলগাঁও ও সহসভাপতি, বেফাক। চার. মাওলানা নোমান ফয়জী পরিচালক, আলজামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল, হাটহাজারী। পাঁচ, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী পরিচালক, জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুর, ফটিকছড়ি। ছয়. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী পরিচালক, ফতেপুর মাদরাসা, হাটহাজারী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *