মৃত্যুর আগে ৪ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন রুম্পা?

রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে গ্রেফতারের পর চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএম) সৈকতকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, বাসায় মোবাইল ফোন রেখে বের হওয়ার পর ৪ ঘণ্টা রুম্পা কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কী করেছেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এই সময়টাতে আসলে কী ঘটেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়ার আগে রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সেটি পরিষ্কার হবে না। এর আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এদিকে সৈকতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুম্পার সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ঘটনার দিন বুধবার বিকাল ৪টায় রুম্পার সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের বাইরে সৈকতের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা উঠলে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার অনুরোধ করেন সৈকত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

তবে ঠিক এর কারণে সৈকত কি রুম্পাকে হত্যা করেছেন, নাকি রুম্পা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনাস্থল সংলগ্ন তিনটি বহুতল ভবনের কোনটি থেকে রুম্পা নিচে পড়েছেন, এ বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, যেখানে রুম্পার লাশ পড়েছিল, এর পাশের তিনটি ভবনের মধ্যে একটিতে (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় রুম্পার এক বান্ধবীর বাসা। বিকেল ৪টায় সৈকতের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিলেন রুম্পা। সেখানে তিনি অনেক কান্না করেন। একপর্যায়ে ওই বাসা থেকে চলে আসেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ৫ম তলা থেকে বেরিয়ে রুম্পা মালিবাগের শান্তিবাগের বাসায় যান। পরে তিনি শান্তিবাগ এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে প্রাইভেট পড়িয়ে বাসার নিচে গিয়ে তার মাকে ফোন দেন। ফোনে রুম্পা তার মাকে একজোড়া স্যান্ডেল ৮ বছর বয়সী চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে বাসার নিচে পাঠাতে বলেন। পরে দামি জুতা পরিবর্তন করে ওই স্যান্ডেল পরেন।

এ সময় সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, ভেনিটি ব্যাগ, টাকা, আংটি এবং ঘড়ি ওই চাচাতো ভাইয়ের হাতে তুলে দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বেরিয়ে যান। এরপর ১০টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের তিনটি ভবনের যে কোনো একটির ছাদ থেকে রুম্পা নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে স্যান্ডেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এই তিনটি ভবনের যে কোনো একটির ছাদ থেকে তাকে কেউ হত্যা করে ফেলে দিতে পারে। তবে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ১১ তলার ছাদের একপাশে ঢালু কার্নিশে জুতার ছাপ পাওয়া গেছে। এই ছাপগুলো রুম্পার জুতার কি না, সেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরীক্ষা করে দেখছে।

সৈকতকে রিমান্ডে নেয়া প্রসঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৈকত এখনও সন্দেহভাজন আসামি। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণেই তাকে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া রুম্পার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জেরে ঘটনা ঘটেছে কি না, এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতেও তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *