ভিন্নধর্মী সূর্য গ্রহণ আজ

আজ রবিবার ঘটবে এক মহাজাগতিক বিরল ঘটনা। বছরের দীর্ঘতম দিনটিতে কর্কটক্রান্তিতে সূর্যগ্রহণের কারণে আকাশে অবলোকন করা যাবে অপার্থিব ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিগোলক। সর্বোচ্চ গ্রহণকালে চাঁদের অপচ্ছায়া গ্রাস করে যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আনবে তখন সূর্যের সুতীব্র আলোক রেখা গোলাকার হয়ে রিং বা আংটির মতো ঠিকরে বেরিয়ে আসবে।

 

বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। ঢাকায় গ্রহণের সূচনা ঘটবে দুপুর ১১টা ২৩ মিনিটে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হবে দুপুর ১টা ১২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে। খুলনায় ১টা ৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে, বরিশালে ১টা ১২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে, ময়মনসিংহে ১টা ১২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে, চট্টগ্রামে ১টা ১৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে, সিলেটে ১টা ১৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে, রাজশাহীতে ১টা ৬ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এবং রংপুরে ১টা ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় সূর্যগ্রহণ হবে।

 

প্রতি বছরের ২১ জুন সূর্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে অবস্থান করে। এতে উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন দেখা যায়। কর্কটক্রান্তি রেখা বা অক্ষাংশ বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। সূর্য উত্তরায়ণের শেষ সীমাও এই দিনে সংঘটিত হয়। বাংলাদেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও উত্তর ভারত, পাকিস্তানের দক্ষিণ ভাগ, চীন, তাইওয়ান, মধ্য আফ্রিকা থেকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। সর্বোচ্চ গ্রহণ অবলোকন করা যাবে ভারতের যোশীমঠ শহর থেকে। আর পৃথিবীতে সূর্যগ্রহণটির শুরু হবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইম্পফোন্ডো শহর থেকে। কেন্দ্রীয় গ্রহণটির বিদায় ঘটবে ফিলিপিন্সের সামার শহরে বেলা ২টা ৩১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে।

অনুসন্ধিত্সু চক্রের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মো. শাহজাহান মৃধা বলেন, সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক্সরে ফিল্ম, নেগেটিভ, ভিডিও-অডিও ক্যাসেটের ফিতা, সানগ্লাস, ঘোলা বা রঙিন কাচে এসব ক্ষতিকর অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি আটকায় না। তাই কোনোক্রমেই এগুলো দিয়ে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে না। তবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পিনহোল প্রজেক্টর দিয়ে সাদা কাপড়ে ছায়া ফেলে গ্রহণ দেখা যাবে।

 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তাই এটাই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *