ক্রিকেটে যত ম্যাচ পাতানোর ঘটনা রয়েছে, তার বেশিরভাগের সঙ্গেই ভারত জড়িত

ক্রিকেটে যত ম্যাচ পাতানোর ঘটনা রয়েছে, তার বেশিরভাগের সঙ্গেই ভারত জড়িত বলে জানিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

এমন অভিযোগের একটি-দুটি নয়, অর্ধশতাধিক প্রমাণও হাতে রয়েছে আইসিসির।

শনিবার স্পোর্টস ল অ্যান্ড পলিসির ওপর করা এক ওয়েবিনারে ভারতের ওপর এমন গুরুতর অভিযোগ আনেন আইসিসির ম্যাচ ফিক্সিং তদন্তের সমন্বয়কারী স্টিভ রিচার্ডসন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে এখন ৫০টির মতো ম্যাচ পাতানোর তদন্ত চলছে। এর বেশিরভাগেই ভারতের সঙ্গে যোগসূত্রতা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচ পাতানোর প্রক্রিয়ায় সবশেষ পর্যায়ে গিয়ে খেলোয়াড়রা আসেন। সমস্যাটা হচ্ছে– ক্রিকেটের এই ফিক্সিং পরিচালনাকারীরা খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে বসে টাকা দেয়, প্রলুব্ধ করে।

এমন বেশ কয়েকটি ফিক্সিংয়ে ভারতীয়রা জড়িত দাবি করে রিচার্ডসন বলেন, আমি এখনই অন্তত আটজনের নাম ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দিতে পারব, যারা প্রতিনিয়ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফিক্সিংয়ের বিষয়ে যোগাযোগ করেন।

তবে এসব ফিক্সিং ঘটনায় সব ভারতীয় খেলোয়াড় জড়িত নন বলেও জানান তিনি।

স্টিভ রিচার্ডসন বলেন, আমরা প্রমাণ পেয়েছি– বাজিকরদের বেশিরভাগই ভারতীয়। এবং বিষয়টি ক্রিকেটের জন্য খুবই আশঙ্কাজনক।

তা হলে কি করে ক্রিকেটকে এসব বাজিকরের ভয়াল হাত থেকে রক্ষা করা যায় তার পথও বাতলে দিয়েছেন আইসিসির ম্যাচ ফিক্সিং তদন্তের এ সমন্বয়কারী।

তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ফিক্সিংকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা ছাড়া পথ নেই। শ্রীলংকা প্রথম দেশ হিসেবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে আইন করেছে। যে কারণে এখন লংকান ক্রিকেট আগের চেয়ে সুরক্ষিত। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে আমরা আগেই সতর্ক। ভারতে এমন কোনো আইন না থাকায় আকসু এক হাত বাধা অবস্থায় কাজ করছে।

প্রসঙ্গত ভারতের জমজমাট ফ্রাঞ্চাইজি লিগ টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) শুরু থেকেই ব্যাপক ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এ টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচই নাকি পাতানো- এমন অভিযোগ শোনা যায় প্রতি বছরই। এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রমাণিতও হয়েছিল এ অভিযোগ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য হিন্দু

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *