নদীতে ইলিশ নেই জেলেদের ঈদ আনন্দ ম্লান

ভরা মৌসুমেও চরফ্যাশনের মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে সারাদিন জাল বেয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এতে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে তাদের।

প্রতিদিন জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নামলেও তাদের ফিরে আসতে হচ্ছে খালি হাতে। যেটুকু মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে খরচ ওঠে না তাদের। এতে অনেকের মাছ ধরার আগ্রহও কমে গেছে। কেউ কেউ আবার ঋণের বোঝা নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলের মেঘনা তীরবর্তী ঢালচর, চরকুকরিমুকরি, পাতিলা, ভাসানচর, বেতুয়, ঘোষেরহাট, সামরাজ সুলিজ, মেঘভাষান, বকশি, কুকরি ঠোডা, খাজুরগাছিয়াসহ বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় গত ২০ মে থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। টানা ৬৫ ইলিশ শিকার বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছিলেন চরফ্যাশনের জেলেরা। কিন্তু ইলিশের দেখা মিলছে না জেলেদের জালে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

ঢালচর ও চরকুকরিমুকরি এলাকার জেলে সালাউদ্দিন, আ. হক, ইব্রাহিম, রমিজ, খালেক ও তাহের বলেন, নদীতে জাল বেয়ে তেলের খরচ উঠছে না। আগে এমন সময় নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়তো। দুই মাস নদীতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় মনে করেছি অনেক ইলিশ ধরা পড়বে কিন্তু নদীতে ইলিশ নেই। ভরা মৌসুমে ইলিশ না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

জেলে নরুল ইসলাম বলেন, এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নৌকা মেরামত করে নদীতে নেমেছি কিন্তু মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়েদের ঈদের জামা-কাপড় কিনে দিতে পারিনি। একই কথা জানান মনির ও ইব্রাহিম।

এদিকে নদীতে ইলিশ সংকট থাকায় মাছের আড়তগুলো জমে ওঠেনি। সামান্য কিছু মাছের কেনাবেচা হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন আড়ৎদাররা।

চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ ঘাটের আড়ৎদার আজিজ মেম্বার জানান, নদীতে ইলিশ নেই, তাই জেলেরাও কষ্টে আছে, আমরাও লোকসানের মুখে রয়েছি। সামনে ঈদ সবার আশা ছিল অন্তত ইলিশ বিক্রির টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করবেন কিন্তু মাছ সংকটের কারণে সবার মুখ মলিন হয়ে গেছে।

আড়তদার মহিবুল্লাহ বলেন, আগে এ ঘাটে দিনে দৈনিক ২০-৩০ লাখ টাকার ইলিশ কেনাবেচা হতো কিন্তু এখন হচ্ছে মাত্র ৫-৬ লাখ টাকার। জেলেদের দাদন দিয়ে আমরাও ভালো নেই।

এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, এ মুহূর্তে নদীতে ইলিশের সংকট রয়েছে। এ বছর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের মৌসুম কিছুটা বিলম্বে আসছে, আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে। আর ১দিন পরই ঈদুল আযহা। মেঘনার পাড়ে এসব জেলে পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা দুই বেলা দুমুঠো খাবার জোগাড়ের দুশ্চিন্তায় পড়ছেন জেলেরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *