হাজী সেলিমের ছেলে বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে।  সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন্নাহার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন

তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে সোমবার ভোরে মামলাটি করেছেন। মামলায় তিন জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।’

আসামিরা হলো, এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন। গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গ্রেফতার মিজানুর ও গাড়ি ধানমন্ডি থানায় রয়েছে।

ওয়াসিফ আহেমদ এজাহারে  অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত দিয়ে বই কিনে মোহাম্মদপুরের দিকে তার বাসার দিকে মোটোরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটোরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি থাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটোরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটোরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে,  ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো। এই বলতে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *