মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ইতো বানিয়েছেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের দল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার রাজাকারকে মুক্ত…..

বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের দল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানাচ্ছে। তারা যে মুক্তিযুদ্ধের সরকার সরকার করে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ইতো বানিয়েছেন খালেদা জিয়া। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, গণতন্ত্রের যে চেতনা, সেই চেতনাকে নিয়ে আমরা লড়াই করছি।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের মরহুম পিতা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার বিদেশিদের পদলেহন করছে। তারা মানুষের স্বার্থে কাজ করছে না। তারা নিজেদের স্বার্থে কাজ করছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। তার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ ঠিক রাখতে হবে। আমাদের স্বার্থ বাদ দিয়ে অন্যদের স্বার্থ চরিতার্থ করা যাবে না। আমরা তিস্তা নদীর পানি পাই না। বর্ডারে আমাদের মানুষগুলো করে হত্যা করে। কিন্তু তার বিচার হচ্ছে না।

ভারতের এনআরসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর এই দেশের মানুষ ভারত কেন যাবে? ভারত আমাদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত না। ভারতের ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে কাজ করে। ভারতের বৈদেশিক আয়ের ২য় অবস্থানে বাংলাদেশ।

খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গণমানুষের নেতা। তাই এই সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ এ সব অন্যায় ও লুটপাট করতে পারত না।

দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে এ দেশে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। কারণ গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়া অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। খালেদা জিয়া সেই ব্যক্তি, সেই নেত্রী, যে সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। লড়াই করেছেন, বলেন তিনি।

মোমেন খান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আবদুল মোমেন খান একজন প্রতিকৃতি। তিনি শুধু নরসিংদীর জন্য কাজ করেননি। তিনি সারা দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। আমাদের সবাইকে তার পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

এ সময় প্রধান আলোচক জাসদ সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, এই সরকার স্বৈরাচারী সরকার। স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাতে হলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণআন্দোলন তৈরি করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার বারবার আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ১৯৭৩ সালে এই নরসিংদীতেই আমার মিছিলে নির্বিচারে গুলি করে ৩ জনকে হত্যা করে। এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আবদুল মোমেন খান স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে নরসিংদী সি অ্যান্ড বি রোডের বধূয়া কমিউনিটি সেন্টারে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুক্তিযোদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদিন, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ খোকন, সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন মিন্টু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ইরান, জামাল আহমেদ চৌধুরীসহ প্রমুখ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *