গুনাহ থেকে ফিরে আসার উপায় কি ?

গুনাহ থেকে ফিরে আসার উপায় কি ?

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমরা ঠিক আর বেঠিক বুঝতে পারি ঠিকই কিন্তু সেটা মেনে চলতে পারিনা। কিভাবে আমরা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করতে পারি?
১) এমন ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌ আমাদের যেই পদ্ধতি দিয়েছেন সেভাবেই আমরা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারি। আর সেই পদ্ধতি হচ্ছে, আপনি নিজের কাছে নিজে জবাবদিহি করতে শিখুন। প্রতিদিন যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন তখন আপনি আপনার সারাদিনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে একটু ভেবে দেখুন। ভেবে দেখুন আপনি কি আজকে কারো হক্ক নষ্ট করেছেন ? কাউকে অন্যায়ভাবে অত্যাচার করেছেন ? কাউকে ওজনে কম দিয়েছেন ? কারো টাকা মেরে খেয়েছেন ? কারো গায়ে হাত তুলে তার উপর জুলুম করেছেন ? ঘুষ খেয়েছেন ? সুদ খেয়েছেন ? আল্লাহ্‌র হুকুম মেনে সারাদিন কাটিয়েছেন নাকি আল্লাহ্‌র হুকুমের বিরোধি কাজ করে দিন কাটিয়েছেন ? আপনি সারাদিনের নামাজগুলো আদায় করেছেন ? সারাদিনের এই প্রত্যেকটা ব্যাপারে আপনি একটু নজর দিন , আর চিন্তা করুন। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আপনি নিজেকে নিজে একটু জবাবদিহিতার মধ্যে রাখলে এটা আপনাকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।
.
২) আপনি নিজেকে ফ্রেশ রাখার জন্য এবং আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য কুরআন মাজিদের অনুবাদ অর্থ সহ পড়ুন। সময় না হলে সপ্তাহে একদিন বা ১০ দিন পর পর একদিন অন্তত আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টার জন্য আপনার নিজের মাতৃভাষায় কুরআন মাজিদ পড়ুন। কুরআন মাজিদ বুঝে পড়লে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে একটা আপনি একটা বিশেষ রহমত পাবেন এবং আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআনের মাধ্যমে আপনাকে সঠিক রাস্তা ও জ্ঞান দান করবেন। কুরআন মাজিদের একটি ক্ষমতা হচ্ছে এটা আপনাকে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক মজবুদ করবে আর গুনাহ থেকে আপনাকে বিরত রাখবে।
.
৩) পাশাপাশি এটি মনস্থির করুন যে কমপক্ষে সারাদিনে একটি নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করার। মসজিদের নিজস্ব একটি শক্তি আছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে যা আপনাকে পরিশুদ্ধ করবে এবং অন্তরকে শান্তি দিবে। এমনিতে সারাদিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই মসজিদে পড়ার চেষ্টা করতে করবেন। না পারলে কমপক্ষে একটি নামাজ হলেও মসজিদে আদায় করবেন। আর সেই নামাজটি যদি ফজরের নামাজ হয় তাহলে সবচাইতে উত্তম হয়। কারন এই নামাজটি মসজিদে আদায় করলে অন্তরে বিশেষ একটি রহমত ফিল করতে পারবেন যা আপনাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখতে ও সারাদিন আল্লাহ্‌র স্মরণ রাখতে সাহায্য করবে।
.
৪) এরপরেও যদি মনে করেন যে আপনি পরিশুদ্ধ হতে পারছেন না। আর গুনাহ ছাড়তে পারছেন না তাহলে শেষ উপায় হচ্ছে আপনি ভালো মানুষদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন এবং সময় তাদের সাথেই কাটাতে থাকুন। আল্লাহ্‌ বলেন, ”হে মুমিনগণ,তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” (সূরা তাওবা, ১১৯)। যারা আল্লাহ্‌র আদেশ নিষেধ মেনে চলে এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করে এমন লোকেদেরকে সাথে চলাফেরা করুন। তাহলে আপনি নিজেও পরিশুদ্ধ হতে পারবেন। এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্‌ ও আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) এর বলে দেওয়া পদ্ধতি। আর আমাদের উচিৎ এই পদ্ধতি অনুসরন করা। আর দ্বীনের মধ্যে থাকার এটিই সঠিক পদ্ধতি।
.
এর বাইরে মানুষের তৈরি পদ্ধতিতে নিজের ইমান আমল পরিশুদ্ধ করতে গেলে তাতে ফায়দা হয় ঠিকই কিন্তু তারচাইতে বেশি ক্ষতি হয়ে যায়। এমন অনেক তাবলীগই দল আছে যারা নিজেরাই পদ্ধতি আবিস্কার করে মানুষকে দাওয়াত দেয় । যেটা আল্লাহ্‌ ও আল্লাহ্‌র রসুলের পদ্ধতি নয়। আর এতে করে বাহ্যিক ফায়দা মনে হলেও আসলে সেটা তার ও তার পরিবারের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। আল্লাহ্‌ আমাদের সঠিক পথে চলার ও জ্ঞান বুদ্ধি খরচ করে বিচক্ষণতার সাথে ইসলাম জানার ও মানার তৌফিক দান করুন। আমীন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *