জাইকার অর্থায়নে ৪০ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প

নদী ব্যবস্থাপনার টেকসই ও কৌশল এবং ব্যবস্থাপনা উপর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাতামুহুরী, সাঙ্গু ও কর্ণফুলি নদী এবং যমুনা-পদ্মার অববাহিকায় প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনার টেকসই ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী প্রকল্প নামে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের উপস্থিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

এই প্রকল্পের বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য অর্জিত হলে এটি শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নকে বেগবান করবে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে জাইকা বাংলাদেশের অধিকাংশ উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা আরো প্রসারিত করেছে।

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ৪৮ বছর ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। এই প্রকল্পের আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীর তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী জাইকার অর্থায়নে পাইলট প্রকল্প গৃহীত হবে যার লব্ধ জ্ঞান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করবে।

জাইকার প্রতিনিধি রাও কি হিতো বলেন, জাপান নিজে দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় দুর্যোগ নিয়ে এতো কাজ করে থাকে। জাইকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আরও অগ্রগামী হবে যেখানে নদীর প্রতিরক্ষামূলক কৌশলকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো, পানি সম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার,পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ এম আমিনুল হক,জাইকার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে জাপান-বাংলাদেশে সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় কারিগরি সহযোগিতা লক্ষ্যে জাইকা ২০১৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য অনুরোধ জানায়। এই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড উক্ত প্রকল্পের প্রস্তাব প্রেরণ করলে জাপান সরকার কর্তৃক তা অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত। জাপানী অর্থ-বছর ২০২০ এ কারিগরি সহায়তার জন্য প্রস্তাবিত আরও ৩ টি প্রকল্প জাপান সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *