ইরাকজুড়ে ‘ইরহেরেন্ট রিজলভ’ অভিযান শুরু করল মার্কিন সেনারা

ইরাকের ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রকেট হামলায় দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ সেনা মারা যাওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপির।

ইরাকজুড়ে কাতায়েব হিজবুল্লাহর অন্তত পাঁচটি অস্ত্র স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন স্থাপনা— যেগুলোতে অস্ত্র মজুত রয়েছে— সেগুলোকে মার্কিন জোটের হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। হামলা হবে আত্মরক্ষামূলক, সমানুপাতিক ও ইরান-সমর্থিত শিয়া যোদ্ধারা যেসব হিসেবে দেখা দিয়েছে, তার সরাসরি জবাব দেয়া হবে।

আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হয়ে ইরাকের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনারা অবস্থান করছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাইক এসপার বলেছেন, আমাদের জনবল, স্বার্থ ও মিত্রদের ওপর হামলা সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমরা খুবই পরিষ্কার করে দিয়েছি, ইরাক ও এ অঞ্চলে আমাদের বাহিনীকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারি।

তিনি হুশিয়ার করে বলেছেন, রকেট হামলার পর সব বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের টেবিলে রয়েছে।

এর আগে হুশিয়ার করে এসপার জানিয়েছেন, দফায় দফায় ১৮টি রকেট হামলায় আমাদের তিন সেনা নিহত হওয়ার জবাব দিতে সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে।

বুধবার তাজি বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা হয়েছে। ঘাঁটিতে বসবাসকারী মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য দেশের সেনারা ইনহেরান্ট রিজলভ অভিযানে অংশ নেবে। ইরানভিত্তিক ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা এর আগেও তাদের রকেট হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

গত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্কিন দূতবাসসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে ২২তম হামলা চালানো হয়েছে বুধবার। এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ইরান-সমর্থিত হাশেদ আল-শাবি নেটওয়ার্কে উপদল কাতায়েব হিজবুল্লাহকে দায়ী করছে ওয়াশিংটন।

বুধবারের হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে আমেরিকান, ব্রিটিশ ও পোলিস রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানে রসদ কেন্দ্র ও ড্রোন ভান্ডার ইউনিটসকে নিশানা করা হয়েছিল। মধ্যরাতের ওই হামলায় বিভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ছিল সুনির্দিষ্ট মার্কিন অভিযান। এতে জোট বাহিনী অংশ নেয়নি।

ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দক্ষিণ বাগদাদের জুরফ আল-সখর এলাকায় পাঁচটি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কাতায়েব হিজবুল্লাহ ওই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়িঘর ও ইরাকের সামরিক স্থাপনাগুলো কেঁপে ওঠে। সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই হামলার পর মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে রকেটের আঘাতে এক মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধ দুই পক্ষকে যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে যায়। দুদিন পর মার্কিন বোমায় ২৫ কাতায়েব হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হন।

পরবর্তীতে তারা বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে সেখানে ভাংচুর চালায়। এতে হালকা ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরাকের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও হাশেদের উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হন।

ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে কেউ নিহত না হলেও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন।

ইরাকজুড়ে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে পাঁচ হাজার ২০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *